Tuesday , August 20 2019
Home / Others / বর্তমান সময়ে নীরব মৃত্যুর অপর নাম সিজারিয়ান অপারেশন!

বর্তমান সময়ে নীরব মৃত্যুর অপর নাম সিজারিয়ান অপারেশন!

আগেকার দিনে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য নরম্যাল ডেলিভারিকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হত। কিন্তু বর্তমানে চিকিত্সাবিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে সিজারিয়ানের প্রতি আকর্ষন বেড়েছে মানুষের। নরম্যাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে অনেকসময়েই বিপত্তি ঘটে কিন্তু সিজারিয়ানের ক্ষেত্রেও যে কম তা নয়। কাটাকুটি করার সময় অনেক বিপত্তি ঘটে। জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিসয়ক সংস্থা WHO জানিয়েছে একটি দেশে ‘র ১৫% মেয়ে যদি একান্তে ই না পারে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া তে বাচ্চা নিতে , সে ক্ষেত্রে সিজার করাতে হবে । আমার দেশে বর্তমান সিজারে বাচ্চা হচ্ছে সে অনুপাতে ৯৭.৩% যা নারী স্বাস্থ্য’র জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ।

এই সিজারে বাচ্চা নিতে গেলে যেমন মা মারা যায় বেশীরভাগ সময় তেমনি ক্ষতি হয় নব জন্ম নেওয়া শিশুটির । সিজারে হওয়া বাচ্চা অনেক বেশী অসুস্থ থাকে একটু খেয়াল করে দেখবেন, যা নরমালে হওয়া বাচ্চাদের হয় না খুব একটা । প্রতি বছর সিজারে বাচ্চা হতে গিয়ে মারা যায় আমাদের দেশে ২৭.৯% মা ,শিশু । এই ছাড়াও সিজার অপারেশনে রোগীর জন্য রক্ত চাওয়া হয় কয়েক ব্যাগ, যা ব্যবহার কমই হয় বাকীগুলো বিক্রি করা হয় । সামাজিক স্ট্যাটাস হয়ে গেছে এখন সিজারে বাচ্চা নেওয়া ! যা বর্তমান নারী দেহ কে ধ্বংস করে দিচ্ছে নীরবে , চিকিৎসকরা সবই জানেন , বুঝেন কিন্তু হাঁসপাতালের মালিক দের খুশী রাখতে এবং নিজেদের অর্থনীতি কে শক্তিশালী করতে তারা করেন নারীর পেট কাঁটা বিজনেস ।

হলি ক্রস মেডিক্যাল-এর এক চিকিত্সকের কথায় তিনি নরম্যাল ডেলিভারিকেই বিশেষ গুরুত্ব দেন এবং নিজের বাচ্চার ক্ষেত্রেও নরম্যাল ডেলিভারির জন্য প্রিপারেশন নিয়েছিলেন। কারণ সিজারে বাচ্চা হলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বাচ্চার ক্ষেত্রে 90 শতাংশ ঝুঁকি থাকে। আমাদের দেশের সরকারি হাসপাতালে এমন নিয়ম না থাকলেও বেশিরভাগ চিকিত্সকরা পয়সার লোভে সিজারিয়ান পদ্ধতিকে গ্রাহ্য করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে 15 শতাংশ মহিলা যারা একান্তই নরম্যাল পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন না তাদের ক্ষেত্রে সিজার করা উচিত। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে সিজারে বাচ্চা হতে গিয়ে প্রায় 27.9 শতাংশ মা ও শিশু মারা যায়।

পাশাপাশি সিজারের জন্য যে পরিমান রক্ত লাগে তার থেকে বেশি পরিমান রক্ত রোগীর পরিবার থেকে চেয়ে নিয়ে সেগুলো বিক্রি করা হয়। এবং প্রয়োজনের কম রক্ত দেওয়া হয় যার জন্য নারীদের শরীরের ভিতরে ক্ষতিগ্রস্থ হয় বেশি। আমাদের দেহে কাটা-ছেঁড়া করার ফলে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হই। সিজারের ফলে মহিলাদের দেহের ক্ষমতা অনেকাংশে কমে যায়। একইসঙ্গে সুস্থ হতে সময় নেয় প্রায় পাঁচমাস। অনেক কষ্ট পেতে হয় সিজারে জন্ম দেওয়া মহিলাদের। কাটা জায়গাটিতে একটু বেসামাল হলেই কোনো বড় কিছু হয়ে যেতে পারে। অনেকসময় অনেক মহিলাই সাবধানতা অবলম্বন না করতে পেরে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়। সিজারে দুইবার বাচ্চা নেওয়া গেলেও তিনবার বাচ্চা নেওয়া যায় না। কারণ সিজার পদ্ধতিতে দুইবার কাটার জায়গা থাকলেও কেউ কেউ তিনবার নেওয়ার চেষ্টা করেন আর তখনই ঘটে বিপত্তি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *